স্পোর্টস ডেস্ক: চার বছর পর ফের জাতীয় দলে ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar)। তাঁর ফেরার পরই সামনে আসছে নির্বাচক কমিটির অন্দরের নানা কথা। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আইপিএলে ধারাবাহিক সাফল্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পরেও দীর্ঘ দিন জাতীয় দলের দরজা খোলেনি তাঁর জন্য। এর নেপথ্যে আগের নির্বাচক কমিটির অবস্থানই বড় কারণ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইপিএলে টানা দু’বার ট্রফি জেতা বেঙ্গালুরু দলের সদস্য ছিলেন ভুবনেশ্বর। দুই মরসুমেই দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। নতুন বল হোক বা পুরনো, তাঁর সুইং বার বার সমস্যায় ফেলেছে ব্যাটারদের। টি-টোয়েন্টিতেও নিজের বোলিংকে নতুন ভাবে তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ পেসার। কিন্তু এত কিছুর পরেও জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা দীর্ঘ দিন বন্ধই ছিল। একটা সময় জাতীয় দলে ফেরার আশা ছেড়েও দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
আগরকর-পর্বে ফেরানো হয়নি?
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অতীতের তারকাদের ফেরানোর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না তৎকালীন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। তাঁর নজর ছিল ভবিষ্যতের দিকে। সেই কারণে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বদলে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে এগোনোর নীতিতেই জোর দিয়েছিলেন তিনি।
ভুবনেশ্বরকে জাতীয় দলে ফেরানোর পক্ষে নির্বাচক কমিটির বৈঠকে একাধিক বার সওয়াল করেছিলেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ এবং বর্তমান নির্বাচক রুদ্রপ্রতাপ সিংহ—এমনই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। কিন্তু সেই প্রস্তাবগুলি শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব পায়নি বলেও জানা যাচ্ছে।
এর পর আগরকর সরে যাওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলায়। ভুবনেশ্বরকে ফেরানোর বিষয়ে পরিসংখ্যান-সহ যুক্তি তুলে ধরে প্রজ্ঞান ওঝাকে রাজি করানো কঠিন হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। ওঝাও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং পরিসংখ্যানে সন্তুষ্ট হন। এরপরই জাতীয় দলে ফেরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপেক্ষার সময়টাও নষ্ট করেননি
জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময় ভুবনেশ্বর অবশ্য নিজেকে ক্রিকেট থেকে সরিয়ে নেননি। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। নিজের বোলিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছেন। ভুল হলে তা স্বীকার করে নিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের উপর চাপানোর বদলে দক্ষতা বাড়ানোর দিকেই নজর রেখেছেন।
এই মানসিকতা এবং পরিশ্রমই তাঁকে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে আইপিএলের পারফরম্যান্স। নতুন বলে তাঁর সুইং, নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞতা ফের আলোচনায় নিয়ে আসে ভুবনেশ্বরকে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদেরও তাঁর সুইংয়ের ফাঁদে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সাফল্য নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি তিনি।
কয়েক দিন আগের এক সাক্ষাৎকারে ভুবনেশ্বর জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন এখনও দেখেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই স্বপ্নই এখন বাস্তব হওয়ার পথে।
এ বার কি শামির পালা?
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় দলের বাইরে থাকা আর এক অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামির ক্ষেত্রেও কি একই রকম প্রত্যাবর্তনের দরজা খুলবে?
বোর্ডের এক কর্তা মজা করে বলেছেন, ‘‘ভুবনেশ্বর তো ফিরল। তা হলে শামির প্রত্যাবর্তন কি খুব দূরে?’’











