ওয়েব ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ফের ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি! ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’ (Murasu Update)। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশা ও তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকাতেও প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। দুর্যোগের আগাম সতর্কতা হিসেবে একাধিক এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণের প্রস্তুতি জোরদার করতে তামিলনাড়ু থেকে প্রতিবেশী অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিআরএফের চতুর্থ ব্যাটেলিয়নের তিনটি দল পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের নেতৃত্বে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। সোমবার দুপুর থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে দমকা হাওয়া। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিমান পরিষেবাতেও। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে ১১টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজয়ওয়াড়া থেকে ১০টি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিলের খবর মিলেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চেন্নাই ও তিরুভাল্লুরের স্কুল-কলেজেও ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র প্রভাবে ওড়িশা উপকূলেও জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। আগামী দু’দিন সেখানে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পুরী-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র সরাসরি কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বাংলায় পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই প্রাথমিক পূর্বাভাস। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আপাতত বৃষ্টির কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবুও প্রতিবেশী রাজ্যগুলির পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া ও প্রশাসনিক মহল।











