নয়া দিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আরও শান দেওয়ার প্রস্তুতি। তার আগে মধ্যাহ্নভোজের আসরেই জরুরি বৈঠক সেরে নিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ‘মিটিং উইথ ইটিং’—মধ্য দিল্লির জনপথ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি চলল বিরোধী সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া এবং পরবর্তী আন্দোলনের রণকৌশল ঠিক করা।
বুধবার দুপুরে মধ্য দিল্লির জনপথ এলাকার ‘সাগররত্ন’ রেস্তোরাঁয় বিরোধী সাংসদদের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। একে একে সেখানে পৌঁছন কংগ্রেস, সিপিএম, মমতা তৃণমূল, আরজেডি-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদেরা। বৈঠকে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীও। বিরোধী নেতাদের জমায়েত ঘিরে রেস্তোরাঁ চত্বরের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়।
এসআইআর-বিতর্কের আবহে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে চাইছে বিরোধী জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেই চিঠির খসড়া চূড়ান্ত করতেই বুধবারের মধ্যাহ্নভোজ-বৈঠক। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দেশ জুড়ে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খড়্গের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তার পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ করতেই বিরোধী সাংসদেরা একত্রিত হয়েছিলেন।
‘ভোটচুরি’র অভিযোগ, কমিশনারের পদত্যাগের দাবি
‘ভোটচুরি’ এবং ‘স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনি কার্যকলাপ’-এর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। একই দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠন এবং নাগরিক মঞ্চও।
মঙ্গলবার জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে সংসদ চত্বর থেকে মিছিল করে নির্বাচন সদনের দিকে এগিয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। কিন্তু মাঝপথেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপর সেখানেই অবস্থানে বসে পড়েন বিরোধী সাংসদেরা।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় আকাশবাণী ভবন চত্বরে। সেখানে পৌঁছে যান রাহুল গাঁধী ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা। সেখানেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। সন্ধ্যার পর পুলিশ রাহুল ও প্রিয়ঙ্কাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিউ পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন
মঙ্গলবারের আন্দোলনকে ঘিরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের অন্যান্য শরিককে না জানিয়ে, এমনকি কংগ্রেস সভাপতি খড়্গেকেও অবহিত না করে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান নিয়ে কিছুটা বিস্ময় ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল শরিক দলগুলির মধ্যে।
পরিস্থিতি আঁচ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মমতা তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির নেতাদের ধর্নাস্থলে ডেকে নেন রাহুলের সঙ্গে থাকা কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল ও পবন খেরা। এরপর আকাশবাণী ভবন চত্বরে পৌঁছে যান তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র।
বিরোধী সাংসদদের একাংশের রাতভর সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে মাঝপথেই থেমে যায় বিক্ষোভ। সেই ঘটনার পরের দিনই মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে বসে ফের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেন ‘ইন্ডিয়া’-র শরিকেরা। এখন নজর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বিরোধীদের চিঠির জবাব কী আসে এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচিই বা কী হয়।











