ওয়েব ডেস্ক: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বেআইনি ভাবে ওষুধ বিক্রি ঠেকাতে এ বার বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। খুচরো ওষুধের দোকানে নজরদারি জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। এই লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালের ‘ড্রাগ্স বিধি’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জারি করা একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সম্পন্ন করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, সেই সিসিটিভি ফুটেজ অন্তত তিন মাস সংরক্ষণ করে রাখাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
‘ড্রাগ্স কনসালটেটিভ কমিটি’ (ডিসিসি) এবং ‘ড্রাগ্স টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়রি বোর্ড’ (ডিটিএবি)-এর পর্যালোচনার পর এই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো ওষুধ বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আনা। এই নিয়ম চালু হলে প্রতিটি বিক্রির একটি ‘ভিজ়ুয়াল রেকর্ড’ থাকবে, যা পরবর্তীতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে সাহায্য করবে।
নতুন নিয়মের মূল দিকগুলি:
ব্যাপক আওতা: বর্তমানে তফসিল এইচ, এইচ ১ এবং এক্স-ভুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম থাকলেও, প্রস্তাবিত সিসিটিভি ব্যবস্থা কাফ সিরাপ-সহ সমস্ত প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ: ওষুধের দোকানগুলিকে সিসিটিভি ফুটেজ ৩ মাস পর্যন্ত জমা রাখতে হবে।
বিশেষ নজর কাফ সিরাপে: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাফ সিরাপ বা অন্যান্য ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার রুখতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় এই নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (সিডিএসসিও) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১৯৪৫ সালের ড্রাগস বিধিতে একাধিক সংশোধনী আনার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে এটি অন্যতম। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর বিষয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসা পরামর্শ ও মতামত পর্যালোচনা করার পরেই এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত ভাবে কার্যকর করা হবে।











