ওয়েব ডেস্ক: ফের মুর্শিদাবাদে শক্তি বাড়াল কংগ্রেস। সম্প্রতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে বড়ঞাঁ পঞ্চায়েত সমিতি দখলের পর এবার ধুলিয়ান পুরসভাতেও বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের দাবি করল কংগ্রেস। রবিবার বিকেলে মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে তৃণমূল পরিচালিত ধুলিয়ান পুরসভার চেয়ারম্যান ইনজামামুল ইসলাম রাজা, ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল ইসলাম-সহ মোট পাঁচজন কাউন্সিলর কংগ্রেসে যোগ দেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান একই সঙ্গে দলবদল করায় ধুলিয়ান পুরসভা কার্যত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। যদিও এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, শুধু চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দলবদলেই পুরসভা কংগ্রেসের দখলে চলে যায় না। তাঁদের দাবি, ইনজামামুল ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীতে বর্তমানে ১৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন।
২১ আসনবিশিষ্ট ধুলিয়ান পুরসভায় চেয়ারম্যান ইনজামামুল ইসলাম রাজাকে সরানোর দাবিতে গত ৪ অগস্ট ১৩ জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। অভিযোগ, এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কোনও বৈঠক ডাকেননি। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার ক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে যাঁরা স্বাক্ষর করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল ইসলামও। ধুলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সুমিত সাহাকে প্রায় ১০ মাস আগে সরিয়ে দেওয়ার পর পদটি খালি ছিল। পরে ইনজামামুল ইসলাম খায়রুল ইসলামকে ওই পদে বসান। সেই ভাইস চেয়ারম্যানই এবার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
রবিবার ধুলিয়ানের মাটিতে আয়োজিত যোগদান কর্মসূচিতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান ছাড়াও একাধিক ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের পরিবারের সদস্যরাও কংগ্রেসে যোগ দেন। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাধিপতি ওবাইদুর রহমান এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা ইউসুফ হোসেন, সঞ্জয় জৈন, মনিরুল ইসলাম, আনিকুল ইসলাম-সহ শতাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগদান করেন।
এই যোগদানের ফলে ধুলিয়ান পুরসভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। কংগ্রেসের দাবি, একসঙ্গে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দলবদল পুরসভার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠী এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাঁদের দাবি, পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং দলবদলের ভিত্তিতে পুরসভার ক্ষমতা নির্ধারিত হয় না।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠক এখনও না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলররা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের আশা, আগামী ২৬ অগস্টের পর ধুলিয়ান পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।
তবে তার আগেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতা-কর্মীর কংগ্রেসে যোগদান ধুলিয়ান তথা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বড়ঞাঁর পর ধুলিয়ানেও কংগ্রেসের এই শক্তিবৃদ্ধি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।











