ওয়েব ডেস্ক: তামিলনাড়ুর প্রতিটি পরিবারকে বছরে তিনটি করে গ্যাস সিলিন্ডার বিনামূল্যে (Free Gas Cylinder) দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ‘তলপতি’। তবে এই সুবিধা পেতে পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে হতে হবে। সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার পরিধিও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এ বার দূরপাল্লার বাসেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলা এবং রূপান্তরকামী যাত্রীরা।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজগম (টিভিকে)-এর তরফে প্রতিটি পরিবারকে বছরে ছ’টি করে গ্যাস সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন শুরু করছে বিজয় সরকার। তবে ঘোষিত প্রকল্পে বছরে তিনটি সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘অন্নপূরানি সুপার সিক্স’ নামে এই প্রকল্পের উপভোক্তা হিসেবে পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নাম নথিভুক্ত করা হবে। সিলিন্ডারের দাম সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে।
২০২৭ সালের পোঙ্গল উৎসবের দিন থেকেই ‘অন্নপূরানি সুপার সিক্স’ প্রকল্প চালু হবে বলে জানিয়েছেন বিজয়। জ্বালানি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সঙ্কট বেড়েছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপ কমাতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
শুধু রান্নার গ্যাস নয়, বিনামূল্যে বাসযাত্রার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। এত দিন রাজ্যে মহিলাদের জন্য ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধা ছিল। বিজয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বার এক্সপ্রেস এবং ডিলাক্স শ্রেণির বাসেও এই সুবিধা মিলবে। আন্তঃজেলা বাস পরিষেবাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
‘ভেট্ট্রি পায়ানা থিত্তম’ প্রকল্পের আওতা আরও বাড়িয়ে তাতে রূপান্তরকামী মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত পরিষেবা চালু হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে মহিলা ও রূপান্তরকামী যাত্রীদের গণপরিবহণ ব্যবহারে সুবিধা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিন চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজয়। পারান্দুরে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় বিমানবন্দরের কাজ আপাতত বন্ধই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। ওই এলাকায় বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা এবং কয়েকটি কৃষক সংগঠন আপত্তি জানিয়েছিল।
বিজয়ের বক্তব্য, নতুন বিমানবন্দর এমন জায়গায় তৈরি করা উচিত, যেখানে কোনও পরিবারকে উচ্ছেদ করতে হবে না এবং কৃষকদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। সেই কারণে পারান্দুরের পরিবর্তে বিমানবন্দরের জন্য কয়েকটি বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি, বিনামূল্যে বাসযাত্রার পরিধি বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন করে জমি খোঁজার সিদ্ধান্ত— সোমবার বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত অবস্থানও এ দিন স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন তিনি।











