কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক তিন হাজার টাকার ভাতা থেকে কোনও ‘যোগ্য’ মহিলা বঞ্চিত হবেন না। শনিবার ভবানীপুরের এক কর্মসূচি থেকে ফের এক বার এই আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘ধমকে-চমকে’ সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করা যাবে না।
মাসিক মহিলা ভাতা নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও আবার রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে শনিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভবানীপুরের সুভাষ উদ্যানে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগস্ট মাসে রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আরও ২০-৩০ লক্ষ মহিলা যদি প্রকৃত দাবিদার হন, তাঁদেরও ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।
ভবানীপুরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসে ওই বিধানসভা এলাকায় প্রায় ১৪,৫০০-র বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। আরও প্রায় আড়াই হাজার মহিলার নাম অনুমোদিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। অনুমোদিত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য সরকার টাকা পাঠাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনায় উপভোক্তার সংখ্যা কী ভাবে ধাপে ধাপে বেড়েছে, তার হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুন মাসে এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ২৮ লক্ষ। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১৯ লক্ষে। অগস্টে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অর্থে যাঁরা এই ভাতার উপর নির্ভরশীল এবং যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ‘প্রকৃত হকদার’, তাঁদের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। তাঁর কথায়, আরও ২০-৩০ লক্ষ মহিলার প্রয়োজন হলে তাঁদেরও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিক্ষোভে নামানো হচ্ছে। ‘ধমক-চমক’, সমাজমাধ্যমে রিল এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাধারণ মহিলাদের এ ধরনের প্রচারে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলে মহিলা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০২১ সালে মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা চালু করতে দীর্ঘ সময় নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দু’মাস আগে তা ১,০০০ টাকা এবং বিধানসভা নির্বাচনের তিন মাস আগে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছিল।
এছাড়াও পূর্বতন সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বহু মহিলা ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বেছে বেছে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। সেই সমস্ত মহিলাদের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন করা হবে।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক জন মানুষকে জড়ো করে বা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে সরকারকে মাথা নোয়ানো যাবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি ফের স্পষ্ট করে দেন— প্রকৃত যোগ্য কোনও মহিলা যেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।











