স্পোর্টস ডেস্ক: দলীপ ট্রফি (Duleep Trophy) জয়ের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল পূর্বাঞ্চল। বুধবার ফাইনালের চতুর্থ দিনে মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস গুটিয়ে দিল তারা। তিলক বর্মা এক রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করলেও দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে শেষ পর্যন্ত একাই লড়াই করে গেলেন। তাঁর ৯৯ রানের ইনিংস লাল বলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলে ফেরার দাবিও জোরাল করল।
তৃতীয় দিনের শেষে ২৪২ রানে ছয় উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। চতুর্থ দিনের শুরুতে তাদের সামনে ছিল ইনিংসের ঘাটতি কমানোর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পূর্বাঞ্চলের বোলারদের দাপটে সেই কাজও করতে পারল না দক্ষিণাঞ্চল। শেষ পর্যন্ত ৩৩৬ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস।
এর আগে ঈশান কিশনের দুরন্ত দ্বিশতরানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রান করেছিল পূর্বাঞ্চল। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের বিশাল লিড পেয়ে যায় তারা।
ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল না হলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই হিসেবে পাঁচ দিনের ম্যাচে ফলাফল না এলেও ট্রফি জেতার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্বাঞ্চলের হাত থেকে ট্রফি ছিনিয়ে নিতে দক্ষিণাঞ্চলকে কার্যত অবিশ্বাস্য কিছু করতে হবে।
তিলকের লড়াই থামল ৯৯ রানে
চতুর্থ দিনের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তিলক বর্মা। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন চামা মিলিন্দ। দু’জনে মিলে ধীরে ধীরে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের জুটি ভাঙতে পারছিল না পূর্বাঞ্চলের বোলিং আক্রমণ।
শেষ পর্যন্ত সেই জুটি ভাঙেন শিখর মোহন। তিনি ৪৩ রানে মিলিন্দকে ফিরিয়ে দেন। এরপরই দ্রুত ভেঙে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটিং। ত্রিপুরাণা বিজয় ও মহম্মদ সিরাজ সামান্য প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
অন্য দিকে, তিলক তখন শতরানের দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি এবং হাতে থাকা সময়ের কথা মাথায় রেখে তাঁকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হয়। সেই চেষ্টাতেই ৯৯ রানের মাথায় কৌনাইন কুরেশির বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। মাত্র এক রানের জন্য হাতছাড়া হয় বহু প্রতীক্ষিত শতরান।
তবুও তাঁর ৯৯ রানের লড়াকু ইনিংস দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম উজ্জ্বল দিক হয়ে থাকল। পাশাপাশি লাল বলের ক্রিকেটে নিজের জায়গা করে নেওয়ার দাবিও আরও একবার জানিয়ে রাখলেন তিলক।
১৪ বছর পর ট্রফির সামনে পূর্বাঞ্চল
শেষ বার ২০১২-১৩ মরসুমে দলীপ ট্রফি জিতেছিল পূর্বাঞ্চল। তার আগের মরসুমেও ট্রফি উঠেছিল তাদের হাতে। সেই হিসেবে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের দলীপ ট্রফি জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বাঞ্চল।
তবে এই সময়ের হিসাবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মাঝের পাঁচ বছর দলীপ ট্রফি আঞ্চলিক ফরম্যাটে খেলা হয়নি। পাশাপাশি কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে দু’বছর এই প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠের ক্রিকেটে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে পূর্বাঞ্চল।
ঈশান কিশনের দ্বিশতরান, ব্যাটারদের সম্মিলিত দাপট এবং বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ফাইনালে এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পূর্বাঞ্চলের হাতে। শেষ দিনে বড় কোনও নাটক না হলে বহু প্রতীক্ষিত দলীপ ট্রফি ফের পূর্বাঞ্চলের ঘরে উঠতে চলেছে।











