কলকাতা: নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (New Market Fire) মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তাঁদের মধ্যে আটজনই বাংলাদেশের নাগরিক। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন, তিন বছরের সন্তান স্বর্ণশিস দত্ত এবং শ্বশুর আক্রম আলি। এ ছাড়াও ঢাকার বাসিন্দা আহমেদ বাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি মৃতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে অসুস্থ হয়ে পড়া ছয় বাংলাদেশি আপাতত বিপন্মুক্ত। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র কলকাতা। চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা পর্যটনের জন্য প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি এই শহরে আসেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে কেউ কলকাতায় থাকেন, আবার অনেকে কলকাতা হয়ে যান বেঙ্গালুরু, ভাইজ্যাগ-সহ দেশের অন্যান্য শহরে। সেই সূত্রেই কলকাতায় এসেছিলেন দেবাশিস দত্ত ও তাঁর পরিবার।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন দেবাশিস দত্তের স্ত্রী আফসানা সিমমিন। তাঁর চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন দেবাশিস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন শ্বশুর আক্রম আলি। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করানোর পর তাঁরা কলকাতায় আসেন। নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা।
কিন্তু মধ্যরাতে আচমকাই সেই হোটেলে আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন ঘরে। ঘন ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। প্রাণ বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি দেবাশিস, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরের। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় ঢাকার বাসিন্দা আহমেদ বাবুরও মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত বাকি ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ওই বিপজ্জনক ভবন থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে বহু বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে এসি-তে বিস্ফোরণ বা ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল অবিলম্বে ফায়ার অডিট-সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছেন।
নিউমার্কেটের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুতে কলকাতায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মৃত ও আহতদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে।











