কলকাতা: কলকাতা পুরসভার অভিযানের পর এ বার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের একটি ভবনে পৌঁছল দমকল। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশও। ওই ভবনেই রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দফতর। সোমবার দুপুরে আচমকাই সেখানে দমকল আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল।
তবে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, নিয়মমাফিক ‘ফায়ার অডিট’-এর অংশ হিসাবেই ওই ভবনে পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, কোথাও কোনও গলদ রয়েছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে খবর।
সোমবার প্রথমে ভবনের বাইরের অংশ ঘুরে দেখেন দমকল আধিকারিকেরা। এর পর একে একে ভবনের বিভিন্ন তলায় গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর যে তলায় রয়েছে, সেখানেও যান আধিকারিকেরা।
ভবন তৈরির সময় যে নকশা বা পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান নির্মাণের কোনও পার্থক্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হয়। নকশার বাইরে কোনও অংশ পরবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজর দেন তাঁরা। ভবনের বাইরের একটি শেড নিয়েও আপত্তি জানানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
এর পর দমকল আধিকারিকেরা ভবনের বেসমেন্টে যান। সেখানে রয়েছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ঠিকঠাক কাজ করবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। বেসমেন্টে থাকা একটি জলের পাম্পও পরীক্ষা করেন আধিকারিকেরা।
দমকলের এক আধিকারিক মরোজ বাগ জানান, এটি নিয়মমাফিক ফায়ার অডিট। তাঁর কথায়, ‘‘ফায়ার-অডিট করা হচ্ছে। আমরা সবটাই খতিয়ে দেখছি। এই বিল্ডিংয়ের সব তলায় গিয়ে সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখা হবে। আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী বানানো হয়েছে কি না, সেটাই দেখা হচ্ছে। নকশার বাইরে কোনও অংশ পরে তৈরি করা হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া হবে।’’
কোনও অভিযোগের ভিত্তিতেই কি এই অভিযান? সেই প্রশ্নের উত্তরে দমকল আধিকারিক জানান, নিয়ম মেনেই বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের অডিট করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে তা জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পরিদর্শনের কয়েক দিন আগেই ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরকে ঘিরে কলকাতা পুরসভার পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই দফতরের বাইরে থাকা একটি বিলবোর্ড খুলতে যান। পুরসভার অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি অনুমোদন ছাড়াই বসানো হয়েছিল এবং সেটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল।
বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এ বার একই ভবনে দমকল ও পুলিশের যৌথ উপস্থিতি নতুন করে নজর কেড়েছে।
তবে দমকলের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমান পরিদর্শনটি নিয়মমাফিক অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা হিসাবেই করা হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে কোনও অনিয়ম বা গাফিলতি চিহ্নিত হলে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।











