ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক জনসভা থেকে তিনি জানান, যাঁরা কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তারা বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত যাঁরা পাবেন না, তাঁরা পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে।” তিনি আরও জানান, আয়ুষ্মান ভারতের মতো এই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও দেশের যে কোনও সরকারি বা তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তাঁর কথায়, “এই কার্ডের সুবিধা শুধুমাত্র এ রাজ্যে নয়, সারা ভারতে যাতে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।”
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় সাধারণ মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন। তবে পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের সকলেই আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসবেন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এর আগে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হবে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে উপভোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবিমার কার্ড বিতরণও করা হবে। সরকার জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত উপযুক্ত উপভোক্তারাও ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধার আওতায় আসবেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপড়েনের জেরে পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হয়নি। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটি চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবার, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত পরিবার, কাঁচাবাড়ি বা এক-কামরার বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, এবং যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সের কোনও উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই, তাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। এছাড়াও ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন। অন্যদিকে, যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প হিসেবে চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা।
স্বাস্থ্য প্রকল্পের পাশাপাশি রেজিনগরের সভা থেকে আরও একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-র পাশাপাশি জি রামজি প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান বিধি যোজনা-য় কেন্দ্রের বার্ষিক ৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।










