কলকাতা: নিয়োগ মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যেই রাজ্যকে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর পর আর কোনও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ফলে আপাতত আরও প্রায় ন’মাস চাকরি চালিয়ে যেতে পারবেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনও অতিরিক্ত সময় পেল।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা শুরু হওয়ার পর তা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দীর্ঘ শুনানির পর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছর ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় শীর্ষ আদালত। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়।
তবে চাকরি হারানো সকলেই যে অনিয়মে যুক্ত ছিলেন, এমনটা নয়—যোগ্য প্রার্থীদের কথা মাথায় রেখে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল আদালত। পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রথমে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় পরে চাকরির মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পাশাপাশি শূন্যপদগুলিতে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আরও সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন। সোমবার সেই আবেদনের শুনানি হয়।
শুনানিতে রাজ্য এবং এসএসসির আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত। তবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আদালত স্পষ্ট করেছে, ৩১ মে ২০২৭-এর মধ্যে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতেই হবে। এই সময়সীমা আর কোনও ভাবেই বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য এটিই রাজ্য সরকারের শেষ সুযোগ।
আদালতের নির্দেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। আইনজীবী সুদীপ্ত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্ট যে সময়সীমা দিয়েছে, তার মধ্যেই নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ হোক। যদি তা না হয়, তা হলে বুঝতে হবে এই সরকারও চায় না যাঁরা যোগ্য, ফ্রেশার, তাঁদের চাকরি হোক।’’
অন্য দিকে, রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিনাদোষে যেন কারও চাকরি না যায়। কাউকে যেন অনাহারে মরতে না হয়। আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এক্সটেনশনের আবেদন জানিয়েছিলাম। মহামান্য আদালত যে সময় দিয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের কাছেও আমরা আবেদন করব, যে কোনও মূল্যে যোগ্যদের চাকরি ফেরাতে হবে। বিনাদোষে শাস্তি যেন কেউ না পায়।’’











